হোম > জাতীয়

সুফলসহ বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ধরে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে দুদক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

বন অধিদপ্তরের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ‘টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি বন অধিদপ্তরের গত সরকারে আমলে নেওয়া বিভিন্ন খাত ও প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

দুদক বলছে, কমিশনের অনুসন্ধানে প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক জানিয়েছে, সুফল প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের নথি, ব্যয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ক্রয় কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে অনুসন্ধানকারী দল। এসব নথি যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন অধিদপ্তরের অন্যান্য খাত ও প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও কমিশন তদন্ত করছে।’

২০১৮ সালে বন অধিদপ্তর ‘টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)’ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন খাতের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

দুদকের অভিযোগ, প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের কাজ, কেনাকাটায় অনিয়ম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের ক্ষতি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুফল প্রকল্পে অভিযান চালায় দুদক। ওই অভিযানে মাঠপর্যায়ে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। সে সময় সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযানে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র এবং নথিপত্রে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে অসংগতিও পাওয়া যায় বলে দুদক জানিয়েছিল।

দুর্নীতির অভিযোগে পরে সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করে দুদক। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সুফল প্রকল্পের অনুসন্ধানে নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই মামলার পাশাপাশি নতুন মামলাও হতে পারে।

এদিকে বন অধিদপ্তরের আরেকটি অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। বরিশাল অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে এক দিনেই ৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করার অভিযোগের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি ও সম্পদ বিবরণী সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছে কমিশন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোল্যা রেজাউল করিম কাজের ব্যস্ততা ও মিটিংয়ের কথা বলে ফোন রাখেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বন অধিদপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিয়োগ, বদলি, ক্রয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাধ্যতামূলক অবসরে ‘রাতের ভোটের’ যে ৩২ ডিসি

ভোটের সময়ের ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ছয় মাসে ৮৬ শিশু হত্যা, ১৭টিতে জড়িত বাবা-মা: প্রতিবেদন

জামিন আদেশ দ্রুত পাঠাতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

সাংবাদিকতা পেশার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

স্বাধীন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

কলকাতা উপহাইকমিশনের প্রেস সচিব হলেন মারুফা