স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।’
আজ বুধবার রাজধানীর তথ্য ভবনে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি।’
তবে এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন ‘অপসাংবাদিকতা’ বা ‘ব্ল্যাকমেলিংয়ের’ সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এই অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতির মূল কাজ হলো জনগণের সেবা করা, আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সেই ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। কিন্তু বিগত দিনে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে, গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহসভাপতি ওমর ফারুক জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।