চিঠির খামে ডাকমাশুল হিসেবে মূল্য লেখা যে লেবেল থাকে, তা-ই ডাকটিকিট। এক-দুই দশক আগেও এর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। কিন্তু এখন প্রযুক্তির যুগে চিঠিরই চল নেই, ডাকটিকিট কী জিনিস নতুন প্রজন্ম বুঝবে কীভাবে? তবে অনেকেই পুরোনো ডাকটিকিট সংগ্রহ করে রাখেন স্মৃতি ধরে রাখতে।
ডাক অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাধারণত বিভিন্ন দিবস, ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে বিশেষ ডাকটিকিট করা হয়। এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্পর্কে জানানো যায়।
স্বাধীনতার সময়ে ডাকটিকিটের মাধ্যমে এ দেশের স্বীকৃতির বড় একটা জায়গা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ নামের একটা দেশের উত্থান বিশ্ববাসীর কাছে জানান দেওয়া হয়েছিল এই স্মারক ডাকটিকিটের মাধ্যমেও।
একুশ বাঙালির জীবনের ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। সেই ঘটনাকে ধরে রাখতেও ডাক অধিদপ্তর স্মারক ডাকটিকিট বের করেছিল। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভাষা আন্দোলন নিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। ২০ পয়সা মূল্যমানের এই টিকিটের জমিন সবুজ। তার ওপরে কালো কালিতে আঁকা শহীদ মিনার। পেছনে লাল অর্ধবৃত্ত। টিকিটের ওপরে লেখা ছিল শহীদ স্মরণে, নিচে লেখা বাংলাদেশ। বাঁ দিকে লেখা ২১ ফেব্রুয়ারি, ডান দিকে ভাষা আন্দোলন।
এরপরেও বিভিন্ন সময়ে ভাষা আন্দোলন, ভাষা শহীদ, শহীদ মিনার নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে। ডাক অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক বছর বেশ ধারাবাহিকভাবে অমর একুশে নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের শাখা কর্মকর্তা (ফিলাটেলি) ও সহকারী নিয়ন্ত্রক (স্ট্যাম্পস) অতিরিক্ত দায়িত্ব মো. শফিউল আরেফিন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম ভাষা আন্দোলন নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এরপরে প্রতিবছর প্রকাশিত হয়নি। তবে সম্প্রতি কয়েক বছর নিয়মিত প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছর একুশের স্মারক ডাকটিকিট করার পরিকল্পনা আছে। নির্বাচনের পরে এটি প্রকাশ করা হতে পারে।