হোম > জাতীয়

‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট নয়, সব এজেন্সিকে সমান সুযোগ দিতে হবে’

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

নিউ ইস্কাটনে সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সি বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভা থেকে এসব দাবি জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্টস অ্যালায়েন্সের অধীনে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ১০টি সংগঠন।

সভায় উইথনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকি বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩৩৮টি এজেন্সি কাজ করবে। এর মধ্যে ২৫টি সরাসরি এবং ৩১২টি সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। এই স্তরভিত্তিক কাঠামো প্রকৃত সংস্কার নয় বরং সিন্ডিকেটের একটি নতুন রূপ। এতে নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা মুষ্টিমেয় এজেন্সির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

পারভেজ সিদ্দিকি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো সংখ্যার সিন্ডিকেটই চাই না। দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ থাকতে হবে। নেপাল, পাকিস্তান বা মিয়ানমারের ক্ষেত্রে এ ধরনের কাঠামো করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশের জন্য করা চুক্তিটি পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন।’

সভায় বক্তারা বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। নতুন করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শুরু থেকেই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের উপপরিচালক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান খান, ওকাপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুব ইলাহীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সভায় অংশ নেওয়া অন্য সংগঠনগুলো হলো-ওকাপ, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন, অনির্বাণ, শিল্ড, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন, পল্লী সোসাইটি ও কক্সবাজার প্রবাসী ফোরাম।

সভায় তুলে ধরা দাবিগুলো হলো-

  • ৩৩৮ বা যেকোনো সংখ্যার সিন্ডিকেট কিংবা সাব-সিন্ডিকেট কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
  • সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সি বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা।
  • ঘোষিত ১০ হাজার ‘জিরো-কস্ট’ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে ধীরে ধীরে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা।
  • মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া কর্মীদের পাওনা বা জমা দেওয়া অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া।
  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মর্যাদা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।