রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যার চেষ্টা মামলায় কারাগারে নেওয়া হয়েছে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। আদালত থেকে শুরু করে কারাগারে নেওয়ার পুরো সময়টা জুড়ে তার চোখে–মুখে বিষণ্নতার ছাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আদালত থেকে তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অনেকজন জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সময়েও সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে নির্লিপ্তই দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানির একপর্যায়ে শিরীন শারমিনের কিছু বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তার আইনজীবী। তবে আদালত কথা বলার অনুমতি দেননি। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নেওয়া হলেও অন্যান্য আসামিদের মতো তাঁর গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কিংবা হেলমেট ছিল না।
আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে শিরিন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। এরপর বেলা ২টার দিকে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। বিকেল সোয়া ৩টায় নেওয়া হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের এজলাসে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শিরীন শারমিনের ২ দিনের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন সুবিধাভোগী। এ মামলায় এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এত দিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য তার সর্বোচ্চ দুই দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার এবং এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, এ মামলায় ১৩০ জন আসামি যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও মামলায় নাম রয়েছে। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে তিনি মহান সংসদের স্পিকার হওয়ায় তিনি ছিলেন নিরপেক্ষ ব্যক্তি।
পরে শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জয়বাংলা স্লোগান:
মামলার শুনানি শেষে শিরিন শারমিনকে যখন আদালত থেকে হাজতখানার দিকে নেওয়া হয় তখন আদালতের বারান্দায় অনেকজন জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ছিলেন আইনজীবী।