২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সার্বিকভাবে জেন্ডার বিষয়ে বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বরাদ্দ কমানো হয়েছে। নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ-সংক্রান্ত বাজেট কমেছে ১২ শতাংশ।
আজ সোমবার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকের মূল নিবন্ধের পর্যবেক্ষণ এটি। রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান হলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
নারী সমাজের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি। তিনি বলেন, নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক, প্রায় ৪ কোটি সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে বাজেটে নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ-সংক্রান্ত বরাদ্দ কমেছে ১২ শতাংশ, নারীর সাইবার নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৭ শতাংশ, নারীর চলাচল ও নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৩০ শতাংশ, নারীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে কমেছে ২২ শতাংশ, কার্যকরভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ খাতে কমেছে ৩৪ শতাংশ। অপরদিকে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমানো হয়েছে।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে বিএনপিএসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সহসভানেত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, ‘মন্ত্রণালয়গুলোর জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মসূচির ক্ষেত্রে কম বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দের পরিকল্পনা ও হার নারী উন্নয়ন নীতির কর্মকৌশল অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তার কোনো খতিয়ান আমরা দেখতে পাই না। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দ করা জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রমগুলো কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত, প্রতিবছর তার অগ্রগতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট তৈরি করে জনসমক্ষে পেশ করা উচিত।’
সিপিডির গবেষণা সহযোগী প্রীতিলতা হক বলেন, শিশু স্বাস্থ্যে সরকার বাজেট কমিয়েছে ২২ শতাংশ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত একটি কার্যক্রমে প্রায় ৬৬ শতাংশ বাজেট কমে গেছে, যা নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ বছর নারীর মজুরিহীন সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি দিয়ে বাজেট করার কথা থাকলেও, তা করা হয়নি।’
পরিবারকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, এটা না হলে সাধারণ মানুষ বাজেটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। নীতিনির্ধারকদের, বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও বাজেট বাস্তবায়নকালে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনারও তাগিদ দেন তিনি।
ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, সরকারি আইনগত সহায়তা দেওয়া, নির্যাতনের শিকার নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সংখ্যা বাড়ানোর মতো জরুরি বিষয়গুলো বাজেটে গুরুত্ব পায়নি বলে মত দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু। তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের জন্য বাজেটের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। ফলে এটি কতটা নারীবান্ধব হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’
গোলটেবিল বৈঠক পরিচালনা করেন বিএনপিএসের পরিচালক শাহনাজ সুমী। আরও বক্তব্য দেন জেন্ডার বাজেট ও প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ নিলুফার করিম, প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার প্রমুখ। অন্য বক্তারাও আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দ করা জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বণ্টন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।