হোম > জাতীয়

দেশে বজ্রপাতে বছরে প্রাণহানি ৩৬৫ জন—সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রমেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে গড়ে ৩৬৫ জনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান আসাদুল হাবিব দুলু। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৪৬ জেলায় ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৫ জন। পাহাড় ধসে ৪ জেলায় ২৭ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছেন। গত মে মাসে ভারী বর্ষণের ফলে হাওরের বন্যায় সাত জেলায় কৃষি ও ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৫৪ টাকা।

ভূমিকম্পে উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।

উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা অনেক বড়। ইতিমধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরও কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর সরঞ্জাম নয়, দেশের বেসরকারি খাতের কাছেও থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।