দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত আছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তবে, ২০২০ সালের একটি হিসাব উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, তখন দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি। সে হিসেবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে বলে জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ (অষ্টম পর্যায়) প্রকল্প বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।
একই প্রশ্নোত্তরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ বর্তমানে ষষ্ঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে খ্রিষ্টধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কোনো অনুরূপ প্রকল্প না থাকায় এ ধরনের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দেশে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, নারী ও যুবসমাজের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় নেতা, ইমাম, খতিব, ধর্মীয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাধ্যমে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উগ্রবাদবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা ও বাজেট বরাদ্দের আলোকে বিবেচনাধীন রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে।
ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী বর্তমানে ছয় হাজার টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সাড়ে সাত হাজার টাকা করা হবে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৬০০ জন কম হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘অ-তালিকাভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তকরণ, আদালতে মামলা ও ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে উদ্ধার করা সম্ভব। গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।