সুজনের সংবাদ সম্মেলন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের বড় একটি অংশই স্বল্প আয়ের। সুশাসনের জন্য নাগরিক–সুজনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ৮৩২ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। অন্যদিকে, বার্ষিক কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজন এসব তথ্য তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে:
৫ লাখ টাকার নিচে: ৮৩২ জন (৪১ %)।
৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা: ৭৪১ জন।
২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা: ১৩২ জন।
৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা: ৭১ জন।
১ কোটি টাকার ওপরে: ৯৫ জন।
তথ্য দেননি: ১৫৫ জন প্রার্থী তাঁদের আয়ের ঘর পূরণ করেননি।
সুজন জানায়, কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির মনোনীত। এ ছাড়া ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও কোটিপতি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার কোটিপতি ও অতি স্বল্প আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। গত নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ছিলেন ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশে। একইভাবে ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশ হয়েছে।
সুজনের তথ্যে শীর্ষ ১০ জন আয়কারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিএনপির প্রার্থী। শীর্ষ তিন আয়কারী হলেন:
১. জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা–৮, বিএনপি) : বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা (তালিকার শীর্ষে)।
২. মো. আসাদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল–১, স্বতন্ত্র) : বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
৩. জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর–১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) : বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে আছেন যথাক্রমে মির্জা আব্বাস (বিএনপি, ৯ কোটির বেশি), সালাউদ্দিন আলমগীর (স্বতন্ত্র, ৮ কোটির বেশি), সালাহউদ্দিন আহমদ (বিএনপি), মো. জসীম উদ্দিন (বিএনপি), কায়সার কামাল (বিএনপি), শফিকুল ইসলাম রাহী (স্বতন্ত্র) এবং রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি)। তাঁদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তাঁরা হলফনামার তথ্যের স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের আয়ের উৎস নিয়ে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।