দেশের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে এবং এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দুই বছর কঠিন হবে, অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেকগুলো পদক্ষেপ নেব, যেগুলো জনপ্রিয় না-ও হতে পারে। সুতরাং, একটা কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে গেলে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন আমির খসরু।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামী দুই বছর কঠিন হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিকে আগের জায়গায় অথবা ভালো একটা জায়গায় নিতে হলে যে পরিবর্তনগুলো আনা দরকার, যে সংস্কারগুলো আনা দরকার, ইতিমধ্যে আমাদের অনেকগুলো হয়েছে। তাই আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা এখান থেকে ইনশা আল্লাহ বেরিয়ে আসব।’
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিরাজমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিরোধী দলের বন্ধুদের বলতে চাই, এখানে আপনাদের সহযোগিতা দরকার। এটা দেশের স্বার্থে, সকলের স্বার্থে। অর্থনীতি একেবারে লো লেভেলে, একটা ইকুইলিব্রিয়ামে চলে গেছে। এখান থেকে তুলে আনতে হলে আমাদের সকলকে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের লিডারশিপ ঠিক আছে। আমাদের ক্যাপ্টেন ঠিক আছে এবং আমি মনে করি, ক্যাপ্টেনের ভিশন ঠিক আছে। ন্যায়নীতির অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সততার অবস্থান থেকে কাজ করছেন। সুতরাং, আমি মনে করি, খুব সহজে বের না হলেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। এটা কঠিন একটা কাজ। কিন্তু আমরা বেরিয়ে আসতে পারব।’
দেশের অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা বোঝাতে বেশ কিছু ক্ষেত্রের সূচক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। সেসব ২০০১ সালে বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখান। তিনি বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি। ২০০৫ সালে এটা ছিল ১৩ শতাংশ।
বিএনপি নেতাদের ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং কালচারের মধ্যে সাধারণ প্রক্রিয়া। এটা বিএনপি আবিষ্কার করে নাই। যেদিন থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে বিশ্বে, সেদিন থেকেই ঋণ তফসিলীকরণের ব্যবস্থা আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। এটা কেন হয়? ঋণ তফসিলীকরণ কেন হয়? যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। যেমন কোভিডের সময় মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব ব্যবসায়ীকে তাঁদের ঋণ তফসিলীকরণ করতে হয়েছে, সরকারকে সহযোগিতা করতে হয়েছে। আমাদের এই আন্দোলনের সময় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋণ তফসিলীকরণ হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, কিন্তু গত দীর্ঘ ১৭ বছরে বিএনপির যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন, তাঁরা কেউ ব্যবসা করতে পারেননি, তাঁদের ব্যাংকের স্যাংশন করা লোন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। লোন স্যাংশন হয়ে গেছে, কিন্তু দেওয়া হবে না। তাঁদের ঋণের সময় যখন শেষ হয়ে গেছে, এক্সটেনশন করা হবে না। যত ধরনের বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করা যায় ব্যাংকিং সিস্টেমে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সেটা করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, তাদের (বিএনপি নেতা-কর্মী) গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা যাদেরকে খেলাপি বলা হচ্ছে, তারা এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে পালিয়ে বেড়িয়েছে, বাড়িতে থাকতে পারে নাই। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অনেকে জেলে অবস্থান করেছে। জেলে বসে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কি এত সহজ ব্যাপার? অনেক দল আছে, তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।’