বজ্রপাতে দেশের তিন জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার সদর ও দৌলতপুর উপজেলার দুটি গ্রামে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক কৃষক এবং নেত্রকোনায় এক খামার মালিকের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত দৌলতপুর, ঈশ্বরদী ও নেত্রকোনা প্রতিনিধির পাঠানো নিউজে।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে মারা যাওয়া দুই কৃষক হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামের মৃত মোসলেম কারিগরের ছেলে রওশন আলী (৫০) এবং দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আরোজ আলী (২৮)।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে বজ্রপাতও হতে থাকে। এ সময় সদর উপজেলার দহকোলার জোতপাড়া মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন রওশন আলী। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই সময়ে দৌলতপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন আরোজ আলী। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, বেলা ২টার দিকে আরোজ আলীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বজ্রপাতে মারা গেছেন বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে নদীর চরে গাজর নিড়ানি শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে রকিবুল ইসলাম সরদার (৪৩) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। আজ বেলা ১টার দিকে উপজেলা লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শামসুল নামে আরেক কৃষক আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়িতে আছেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্বজন মুরাদুল ইসলাম, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্থানীয়রা।
নিহতের প্রতিবেশী সেলিম রেজা মন্ডল আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রতিদিনের মতো আজও সকাল ৬টার দিকে লক্ষীকুন্ডা বিলকেদার চরে গাজর নিড়ানির জন্য যান রকিবুল। নিড়ানি শেষে রকিবুলসহ অন্যান্য কৃষকেরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা আনুমানিক ১টার দিকে বিলকেদার নদীর ঘাট পার হওয়ার সময় বৃষ্টি শুরু হয়। ঘাট থেকে নৌকায় ওঠার আগেই বজ্রপাত হলে রকিবুলের শরীরের একাংশ ঝলসে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে রকিবুলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে শফিকুল মিয়া (৩০) নামে এক খামার মালিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের পাউকাটা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল মিয়া উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের ইসহাক মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু বৃষ্টি উপেক্ষা করে শফিকুল মিয়া তাঁর হাঁসের পাল নিয়ে পাউকাটা হাওরে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাকিম বলেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। শফিকুল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বজ্রপাতে শফিকুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। বর্তমানে একটি কাজে রানীচাপুরে আছি। কাজ শেষ করে সাতগাঁও গ্রামে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করব।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে শফিকুলের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিহতের দাফন-কাফনের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে শুকনো খাবারও দেওয়া হবে।