হোম > জাতীয়

ভোটারের কাছে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি, দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 

মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং খুলনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘পকেটের লোক’ কিংবা ‘ভাইয়ের লোক’ সংস্কৃতির দিন শেষ। সারা দিন দলীয় কার্যালয়ে সময় কাটানো কিংবা মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়াই মনোনয়নের যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হবে না। সাধারণ ভোটারের কাছে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি ও নির্বাচনের মাঠে যিনি জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন, দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে। তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ক্যান্ডিডেটকে বাছাই করে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল বা সরকার নেবে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। তবে সেই প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত আক্রোশ, শত্রুতা কিংবা বিভেদে রূপ নেওয়া উচিত নয়। দলের ভেতরে অনৈক্য তৈরি হলে ফ্যাসিবাদের দোসর ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নেবে। তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

খুলনার রাজনৈতিক মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ কাজে কোনো পাবলিক প্রসিকিউটরের গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের বিভিন্ন সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি প্রটোকল সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ প্রটোকল কমিয়ে জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, মন্ত্রীদের গাড়ির বহর কমানো ও জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অপচয় রোধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।