দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে ডিজেলের মজুত কত রয়েছে, সে তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যমান গ্যাস ও জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিন দেশে ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। ৩০ মার্চ ডিজেলের মজুত ২ লাখ ১৮ হাজার টন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন। এত বিপুল বিক্রির পরও মজুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার ডিজেলের পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানি করেছে। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও সরকার যে মজুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাতে প্রায় ২ মাসের চাহিদা পূরণ করা যাবে। ফলে অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং সমস্যাটি মূলত আচরণ নির্ভর।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত বছরের মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন এবং অকটেন-পেট্রলের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনের মধ্যে। অথচ চলতি বছরের ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত অকটেন বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় ১ হাজার ২৫৮ টন। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে বাজারে জ্বালানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।