হোম > জাতীয়

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে (তৃতীয় পর্ব)

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের করা ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা জোরালো হয়েছে। অনেকের মতে, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সেভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। চুক্তিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে বাংলাদেশের জন্য যতটা না ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তারচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির ঘোষণাটি আসে। এরপর চুক্তিটি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই চুক্তিতে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা অপসারণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য চুক্তিটি হুবহু অনুবাদ করে তুলে ধরা হচ্ছে। আজ পড়ুন তৃতীয় অংশ:

তৃতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি

অনুচ্ছেদ ৩.১: ডিজিটাল সেবা কর

বাংলাদেশ আইনগতভাবে বা বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ডিজিটাল সেবা কর বা অনুরূপ কর আরোপ করবে না।

অনুচ্ছেদ ৩.২: ডিজিটাল বাণিজ্যের সুবিধাকরণ

১. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহজতর করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকা;
  • ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্তভাবে সীমান্তের ওপারে তথ্যের অবাধ স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং
  • সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।

২. যদি বাংলাদেশ এমন কোনো দেশের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ ৩.৩: ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্ক

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর, যার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে প্রেরিত বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত, কোনো শুল্ক আরোপ করবে না এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কের স্থায়ী স্থগিতাদেশের বহুপক্ষীয় গ্রহণকে সমর্থন করবে।

অনুচ্ছেদ ৩.৪: বাজারে প্রবেশের শর্তাবলি

১. বাংলাদেশ কোনো শর্ত আরোপ করবে না বা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবে না, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিদের অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সোর্স কোড বা অন্যান্য মালিকানাধীন জ্ঞান হস্তান্তর বা অ্যাকসেস প্রদান করতে বাধ্য করে অথবা তার ভূখণ্ডে ব্যবসা করার শর্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয়, ব্যবহার বা অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

২. এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই:

(ক) সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না;

(খ) বাণিজ্যিকভাবে আলোচিত চুক্তিতে সোর্স কোড প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত শর্তাবলির অন্তর্ভুক্তি বা বাস্তবায়নকে বাধা দেবে না; অথবা

(গ) কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অন্য পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তদন্ত, পরিদর্শন, পরীক্ষা, প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা বা বিচারিক কার্যধারার জন্য, অননুমোদিত প্রকাশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা সাপেক্ষে, সফটওয়্যারের সোর্স কোড বা সেই সোর্স কোডে প্রকাশিত কোনো অ্যালগরিদম সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা আরোপ থেকে বিরত রাখবে না।

চতুর্থ ভাগ: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা

অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক ব্যবস্থা

১. যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমান্তব্যবস্থা বা অন্যান্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয় এবং মনে করে যে, এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করবে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এবং পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শের পর, বাংলাদেশ তার আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সমর্থনে একটি পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে।

২. বাংলাদেশ এমন ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মোকাবিলা করে, যার ফলে—(ক) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি; (খ) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি; (গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস; অথবা (ঘ) তৃতীয় দেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের কম এমন পণ্যের বিষয়ে তথ্য দেবে।

অনুচ্ছেদ ৪.২: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

১. বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান বহুপক্ষীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, তার কোম্পানিগুলো এই নিয়ন্ত্রণসমূহকে প্রতিস্থাপন বা দুর্বল করবে না।

২. যুক্তরাষ্ট্রে বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত লেনদেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা সীমিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ আইনের প্রযোজ্য শর্তাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অনুমোদিত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

৩. অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগত বিনিয়োগ সম্পর্কে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করবে।

৪. যদি যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে যে, বাংলাদেশ যৌথ জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত তার আইন ও বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতাকে বিবেচনায় নিতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৪.৩: অন্যান্য ব্যবস্থা

১. যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সহজতর ও উন্নত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে।

২. বাংলাদেশ বাজার অর্থনীতির দেশগুলোর দ্বারা জাহাজ নির্মাণ ও নৌপরিবহনকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা নেবে। পক্ষসমূহ এ ধরনের ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ করবে।

৩. বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করবে।

৪. যদি বাংলাদেশ কোনো অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে প্রবেশ করে, যা এই চুক্তিকে ক্ষুণ্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

৫. বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তবে এমন মালিকানাধীন উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, যার কোনো বিকল্প সরবরাহকারী বা প্রযুক্তি নেই অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

পঞ্চম ভাগ: বাণিজ্যিক বিবেচনা এবং সুযোগসমূহ

অনুচ্ছেদ ৫.১: বিনিয়োগ

১. বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকে অনুমতি ও সহায়তা দেবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি করা যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামো সেবা দেওয়া যায়, এমন শর্তে, যা অনুরূপ পরিস্থিতিতে তার নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত শর্তের চেয়ে কম অনুকূল নয় এবং এসব বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান বজায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করবে।

২. যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে, যেমন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (এক্সিম ব্যাংক) ও মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সহযোগিতা (ডিএফসি), প্রযোজ্য হলে প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ অর্থায়ন সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগকে সম্ভবপর পরিমাণে সহজতর করবে।

অনুচ্ছেদ ৫.২: বাণিজ্যিক বিবেচনা

১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে, তার রাষ্ট্রায়ত্ত বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহ (এসওই) ও তার বাজারে পরিচালিত তৃতীয় দেশের এসওইসমূহ, যখন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তখন (ক) পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করে; (খ) যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বা সেবার বিরুদ্ধে বৈষম্য করা থেকে বিরত থাকে; এবং (গ) দেশীয় পণ্য উৎপাদকদের ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যতিক্রম হবে। বাংলাদেশ তার পণ্য উৎপাদনকারী এসওইসমূহকে অ-বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদান বা অন্যভাবে ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকবে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে, অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়া কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত সকল প্রকার অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে এবং এসব ভর্তুকি ও সহায়তা ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবসমূহ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে।

অনুচ্ছেদ ৫.৩: বস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাক পণ্যসমূহকে শূন্য পারস্পরিক শুল্কহারের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে। এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত হবে যে, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্র আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে এই হ্রাসকৃত শুল্কহারে প্রবেশ করতে পারবে, তবে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্র রপ্তানির, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তুভিত্তিক বস্ত্র উপাদান ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।

অনুচ্ছেদ ৫.৪: ক্রয়

পরিশিষ্ট ৩-এর ষষ্ঠ ভাগে বর্ণিত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উৎপত্তিগত পণ্য ক্রয় করবে।

ষষ্ঠ ভাগ: বাস্তবায়ন, প্রয়োগ ও চূড়ান্ত বিধান

অনুচ্ছেদ ৬.১: সংযোজনী, পরিশিষ্ট ও পাদটীকা

এই চুক্তির সংযোজনী, পরিশিষ্ট ও পাদটীকাসমূহ এই চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

অনুচ্ছেদ ৬.২: সংশোধন ও পরিবর্তন

প্রতি পক্ষ এই চুক্তির যুক্তিসংগত সংশোধনের অনুরোধ করতে পারে, যা অন্য পক্ষ সদিচ্ছার সঙ্গে বিবেচনা করবে। পক্ষসমূহ লিখিতভাবে এই চুক্তি সংশোধনে সম্মত হতে পারে, যদি এমন সংশোধন এই চুক্তি বা পক্ষসমূহের মধ্যে অন্যান্য চুক্তির সুবিধাসমূহকে ক্ষুণ্ন না করে।

অনুচ্ছেদ ৬.৩: মূল নিয়মাবলি

পক্ষসমূহের উদ্দেশ্য হলো, এই চুক্তির সুবিধাসমূহ প্রধানত তাদের ও তাদের নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। যদি এই চুক্তির সুবিধাসমূহ উল্লেখযোগ্যভাবে তৃতীয় দেশ বা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রবাহিত হয়, তাহলে একটি পক্ষ, সম্ভব হলে অন্য পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের পর, এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মূল নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৬.৪: প্রয়োগ

১. এই চুক্তির কোনো কিছুই কোনো পক্ষকে তার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন প্রতিকার, আমদানি বৃদ্ধি মোকাবিলা, তার অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা অথবা অনুরূপ অন্যান্য কারণে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা থেকে সীমাবদ্ধ বা প্রতিরোধ করবে না।

২. যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বাংলাদেশ এই চুক্তির কোনো বিধান অনুসরণ করেনি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, সম্ভব হলে, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শ করবে। যদি এসব পরামর্শ সন্তোষজনক ফলাফল না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কিছু বা সব আমদানির ওপর ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৫: চুক্তির সমাপ্তি

যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিতভাবে সমাপ্তির নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি সমাপ্তি ঘটাতে পারে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার ৬০ দিন পর বা পক্ষসমূহের নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে সমাপ্তি কার্যকর হবে।

অনুচ্ছেদ ৬.৬: কার্যকর হওয়া

পক্ষসমূহ তাদের প্রযোজ্য আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে লিখিত নোটিশ বিনিময় করার ৬০ দিন পর বা পক্ষসমূহের নির্ধারিত অন্য কোনো তারিখে এই চুক্তি কার্যকর হবে।

চুক্তির পরবর্তী অংশ পড়তে চোখ রাখুন আজকের পত্রিকায়...

আরও পড়ুন:

অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করল বাংলাদেশ-ইইউ

ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় সেনাপ্রধান

বগুড়ায় চৌকিরদহ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে রপ্তানির ওপর চাপ পড়েছে, প্রভাব ফেলতে পারে রেমিট্যান্সে: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

আদালত ন্যায়বিচারের নিরাপদস্থল হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী

সরকার রাষ্ট্র ও সমাজে আইনানুগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলের বৈঠক