প্রথমবারের মতো আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমন ঘিরে সিলেটে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। নগরজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি সড়কের ডিভাইডারেও দেওয়া হয়েছে নতুন রঙের ছোঁয়া।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল শাখার কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা সোয়া ১১টায় তাঁকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিলেট নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউসেই অবস্থান করবেন। রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে পুরো নগরী। রাষ্ট্রপতির চলাচলের রুট থেকে শুরু করে সফরের গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু—সবখানেই নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য, বিশেষ ইউনিট, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও থাকছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ‘রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর পুলিশের পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা ও ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সফরের দিন এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২০০ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কাজ করবে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলো।’
পুলিশ কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় সিলেট মহানগর পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন ভেন্যুতে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।