হোম > জাতীয়

উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কার্যকর সমন্বয় ও অংশীদারত্ব জরুরি: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে মানবিক, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। দেশের উন্নয়নকে টেকসই ও গতিশীল করতে সরকার, ব্যবসা ও শিল্পখাত এবং একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও অংশীদারত্ব জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নভোথিয়েটারের অডিটোরিয়াম হলে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

ব্যবসা ও শিল্পখাত, একাডেমিয়া এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ দেশের উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সংযোগ ঘটাতে পারলে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ আরও বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে চায় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এ ধরনের উদ্ভাবন মেলার মাধ্যমে তরুণ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্প খাতের মধ্যে যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিখোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহির চৌধুরী, বিআইআইএনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবির, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার উদ্দিন মাহমুদ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিচালক দুরদানা চৌধুরী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।