নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাধারণত সহিংসতা বেশি হয়। তবে কমিশন কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দি অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা আয়োজিত ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।
সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো থাকলেও নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল।
সানাউল্লাহ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে।
ইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভায়োলেন্স চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে সানাউল্লাহ বলেন, সরকারি ফলাফল ঘোষণার আগেই কেন্দ্র, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার পর্যায়ে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত এজেন্টদের স্বাক্ষরিত ফলাফল শিটই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য ফলাফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এবার প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রের স্বাক্ষরিত ফলাফল ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘প্রথমবারের মতো আমরা ১০০% সেন্টারের এই স্বাক্ষরিত ফলাফল ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছি। আপনারা ইউ ক্যান চেক।’
কোনো কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হয়ে থাকলে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো কেন্দ্রে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে তাহলে আমরা কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে নাম ঠিকানা দিয়ে বললে পরে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’
ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা ও অনিরপেক্ষতার কারণে জামায়াত তিনটি আসনে জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের কাগজে আগেই স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন।
সাইফুল আলম বলেন, এ ক্ষেত্রে এজেন্টদেরও দায় আছে। ‘এজেন্টদেরও দায়িত্ব আছে সই কেন করবেন তারা, কেন সাইন দিলেন? সে ক্ষেত্রে আমাদেরও দায়িত্ব আছে।’
সাইফুলের দাবি, ভোট গণনায় সারা দেশেই অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে এবং স্বচ্ছতা ছিল না। তাঁর ভাষায়, ‘ঢাকা সিটিতে আমাদের মামুনুল হক সাহেবের সিট, আরেকটা সিটের কথা উল্লেখ করলাম না—এই তিনটা সিটই আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা এবং অনিরপেক্ষতার কারণে এই তিনটা সিট আমাদের হারাইতে হইছে।’ একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ভোট বাতিলের কারণে জামায়াত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন সাইফুল আলম।
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পক্ষপাতিত্ব ছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এমপি শিরিন সুলতানা। তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনেকে একটি দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। তবে নির্বাচনকে পক্ষপাতদুষ্ট করার ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, সরকারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিন সুলতানা বলেন, ‘আমি যদি বলি যে আমাদের যে পরিমাণ সিট পাওয়ার কথা ছিল সে কাঙ্ক্ষিত সিট কিন্তু আমরা পাইনি পক্ষপাতিত্বের কারণে।’
পোস্টাল ভোটকে এবারের নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিদেশে এ বিষয়ে প্রচারণা যথেষ্ট হয়নি বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ভোটার পোস্টাল ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বুঝতে পারেননি বলে জানান।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে করতে ইসির অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনে ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় তা লাখ রাখতে হবে।