হোম > জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

সংসদকক্ষে স্পিকারের সামনের আসনের সামনে সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসনে বসেন নির্বাচনী কর্তা ও সিইসি। তাঁর বাম পাশের তিনটি চেয়ারে বসেন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ডানের দুই চেয়ারে বসেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বেলা ১টা থেকে সংসদ সদস্যরা (এমপি) সংসদকক্ষে আসতে শুরু করেন। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে সংসদকক্ষে প্রবেশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এরপরই আসেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা। বেলা ২টা থেকে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

দুই প্রার্থীর পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে তিনটি ব্যালট বাক্স দেখান নির্বাচনের সহায়ক কর্মকর্তারা।

এরপর ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন নির্বাচনী কর্তা ও সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। শুরুতে এক মিনিট মাইক-বিভ্রাট ছিল। পরে তা ঠিক করা হয়।

নির্বাচনী কর্তার বক্তব্য শেষে সংসদকক্ষে প্রবেশ করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তাঁরা শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। পরে তাঁরা সংসদকক্ষে নির্দিষ্ট আসনে বসেন। তাঁদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন নির্বাচনের সহায়ক কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন।

বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে বাক্সে প্রথম ব্যালট পেপার ফেলেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। ভোট প্রদান শেষে স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। এরপর সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।

বেলা ২টা ১২ মিনিটের দিকে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ভোট দেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট দেওয়া শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধীদলীয় সদস্যদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। এরপর সরকারি দলের এমপিদের ব্যালট বাক্স ফেলতে দেখা যায়।

বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেন। এরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা ভোট দেন।

ভোটকক্ষে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের পরস্পরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় ও ছবি তুলতে দেখা যায়। বেলা ৩টার মধ্যেই কক্ষে উপস্থিত এমপিরা ভোট দিয়ে দেন।

তবে সংসদকক্ষে দেখা যায়নি জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজনকে। বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ভোট দেন। পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের অন্য সদস্যরাও ভোট দিচ্ছেন।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ভোট বর্জনের কথা বলা হয়েছিল। তবে দলটির একমাত্র এমপি অলি উল্লাহকে ব্যালট বাক্সে ভোট দিতে দেখা গেছে। বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ভোট দেন। ভোট দেওয়ার আগে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করতে দেখা গেছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এসে নিজ আসনে বসার আগে বাক্সে ব্যালট ফেলেন অলি উল্লাহ। তবে বেলা ৩টা ৫১ মিনিটের দিকে দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

সংসদে ভোট উপলক্ষে সাংবাদিকদের দুটি গ্যালারি ছাড়া অন্য পাঁচটি সাধারণ ও দুটি ভিআইপি গ্যালারি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণ শেষে একই স্থানে ব্যালট গণনা করা হবে এবং ফল ঘোষণা করা হবে।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। সংসদকক্ষেই তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করা হবে। এরপর সিইসি বৈধ ও অবৈধ ভোটের সংখ্যা এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা ঘোষণা করবেন।

প্রায় ৩৫ বছর পর এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরের নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।