আয় ১ কোটি, সম্পদ ২ কোটি ৬৩ লাখের
সাত বছরে আয় করেছেন ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সংসার ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে বৈধ সঞ্চয় থাকার কথা ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে তাঁর নামে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ। হিসাবের এই বড় গরমিলের জায়গায় প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক ডিআইজি আতিকা ইসলামের স্বামী ও লাক্সিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ফারদিন ইসলাম সাগর। তাঁর নামে থাকা সম্পদের মধ্যে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দুই কোটি টাকাকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।
আজ রোববার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ফারদিন ইসলাম সাগরের সম্পদের পুরো হিসাব ও উৎস জানতে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দিয়েছে কমিশন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত ফারদিন ইসলাম সাগরের মোট আয় ১ কোটি ১৬ লাখ ১৯৮ টাকা। এই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয়েছে ৫২ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৯ টাকা। আয় থেকে ব্যয় বাদ দিলে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকা।
কিন্তু অনুসন্ধানে তাঁর নামে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ, বৈধ আয়ের হিসাব অনুযায়ী যতটুকু সম্পদ থাকার কথা, বাস্তবে পাওয়া সম্পদের আর্থিক পরিমাণ তারচেয়ে দুই কোটি টাকা বেশি।
দুদকের অনুসন্ধানে এই অতিরিক্ত দুই কোটি টাকার সম্পদের উৎস এখনো সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি। তাই এটিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফারদিন ইসলাম সাগরের নামে ও বেনামে আরও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাঁর প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ও সম্পদ অর্জনে অর্থের উৎস আরও গভীরভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
এ কারণেই তাঁর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী ফারদিন ইসলাম সাগরকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হবে।
সম্পদবিবরণী পাওয়ার পর তাঁর ঘোষিত সম্পদ, আয়-ব্যয় এবং সম্পদের উৎসের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করবে কমিশন। অনুসন্ধানে আরও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসবে।