চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পিরোজপুরে।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ রোববার সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের মধ্যে এবার পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটু আশ্চর্যজনক যে, শহর এলাকার বাইরে হঠাৎ পিরোজপুরে কেন এটা হলো?’
এর কারণ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে শাহে আলম বলেন, পিরোজপুর অঞ্চলে প্রচুর নারকেল এবং সুপারির গাছ থাকে এবং এই গাছগুলো কাটার পরে গোড়ার অংশটুকু থাকে, এই অংশের মধ্যে যে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে, এই পানির মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্মেছে। এই কারণে ৬৪ জেলার মধ্যে পিরোজপুরে আমরা সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি।’
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সর্বশেষ হিসাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে প্রায় গতকাল পর্যন্ত আমাদের কাছে যে হিসাব রয়েছে, সেটি হচ্ছে ৯০ জনের মতো। জানুয়ারি মাস থেকে এটা কিন্তু। গত জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে আপনার ৯০ জন। আর প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। এটা হচ্ছে সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত তথ্য এবং সেটা কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার অর্ধেক।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমাদেরও ব্যর্থতা, সফলতা রয়েছে। ব্যর্থতা অনেক, তবে সফলতা এইটুকু— যে গতবারের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর পরিমাণ প্রায় অর্ধেক।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেছি। মশা নিবারণের জন্য বিভিন্ন সিটি করপোরেশন থেকে ক্রাশ প্রোগ্রাম করা হয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রোগ্রাম করা হয়েছে। আপনার ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা হয়েছে। এই স্প্রে মেশিনের যে ওষুধ, এটা নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয় নিয়েও আজকের মিটিংয়ে আলোচনা করেছেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে ঢাকার নগরবাসীসহ সমগ্র দেশবাসীকে অনুরোধ করব যে, সরকার এটা নিয়ে চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের লিফলেট বিতরণ, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুলে, কলেজে, বিভিন্ন জায়গায় আমরা আমাদের কাজ করছি। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে শুধু অনুরোধ করব যে, তাদেরও নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিশেষ করে বাড়ির ভেতরে, বাড়ির ছাদে, বেলকনিতে, বাড়ির আশপাশের যে পরিত্যক্ত ভাঙা টায়ার, কমোড, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র, যেগুলোতে অবাঞ্ছিত পানি আটকে থেকে এডিস মশার লার্ভা উৎপন্ন হতে পারে, এই জায়গাগুলো যাতে সব সময় আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। তাহলে দেখবেন যে, এখান থেকে আমাদের অনেকটা... অনেক অংশে আমাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ডেঙ্গু রোগ।’