হোম > জাতীয়

উত্তরের পথে চরম দুর্ভোগ, হাঁটার গতিতে চলছে যানবাহন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঢলে উত্তরের পথে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের কারণে দূরপাল্লার বাস চলছে প্রায় হাঁটার গতিতে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আকবর আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জানান, বেলা ২টায় মহাখালী থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি পৌঁছেছেন গাজীপুরের নাওজোর এলাকায়। স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টা লাগে, সেখানে সাড়ে ছয় ঘণ্টা লেগেছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আফরোজা পারভীন নামের আরেক যাত্রী। বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবীনগর পার হয়ে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আটকে থাকার কথা জানান তিনি। তাঁর গন্তব্য রাজশাহী।

এবার দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তরের পথে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেক বেশি বলে জানা গেছে। পথজুড়েই থেমে থেমে চলছে গাড়ি। বিশেষ করে, মহাখালী থেকে চন্দ্রা এবং গাবতলী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত বাসের ধীরগতির কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ঈদের দুদিন আগে ঘরমুখী মানুষের চাপের পাশাপাশি টানা বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুপুর ১২টার পর ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এই জেলাগুলোর সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো যুক্ত।

তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। বিপরীতে উত্তরের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

ঘরমুখী মানুষের চাপ ও টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। রাত ৯টার দিকে গুগল ম্যাপে দেখা যায়, মহাখালী থেকে টঙ্গী, গাজীপুর বোর্ডবাজার হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। টাঙ্গাইলের দিকে কিছুটা যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও যমুনা সেতুর আগে আবারও ধীরগতি দেখা যায়।

অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। ফলে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানবাহন চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সকাল পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিশেষ করে, কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়।

অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কের পাশে পরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাসসংকটের কারণে কেউ কেউ খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ভারী বৃষ্টিতে এসব যাত্রীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্তও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে থেমে থেমে যান চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী মানুষ।

নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে গেছে। কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত চাপ রয়েছে। যানজট নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির নির্দেশ

সড়কে দরিদ্রদের মৃত্যুর মিছিল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কেই দায়ী করছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সবচেয়ে স্বাধীন: আইনমন্ত্রী

সীমান্তমুখী চামড়ার গাড়ি দেখলেই ৯৯৯-এ ফোনের পরামর্শ পুলিশের

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে ঈদুল আজহার জামাত

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়ক-মহাসড়ক ও পশুর হাটে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈদে নাশকতার কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই: র‍্যাব ডিজি

২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৫৩ হাজার যানবাহন পারাপার, টোল আদায় পৌনে চার কোটি টাকা