নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ ও প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, মাঠে বা রাস্তায় একটি করে ময়লা ফেললে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু সেসব ময়লা ধীরে ধীরে জমে আবর্জনায় পরিণত হয়। সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়ায় এবং মানুষ অসুস্থ হয়। তাই নিজেদের, পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখতে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব।’ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যাঁরা আবর্জনা ফেলবেন, তাঁদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ পারব।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙারি, কাগজ, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস যেখানে-সেখানে পড়ে থাকলে সেখানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের তরুণেরা যে পরিবর্তন ঘটাতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণসমাজই করেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে স্কাউটসের সদস্য প্রায় ২৩ লাখ এবং বিএনসিসির সদস্য ২২ হাজার। এ ছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। গার্ল গাইডস, বিএনসিসি, স্কাউটস ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।