ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। তিনি বলেছেন, ‘আমরা লজ্জা পাই একই সংসদ একসঙ্গে শেয়ার করার জন্য। কারণ, তারা জনগণের টাকা মেরে, জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে ঋণখেলাপি হয়ে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
বিএনপি পাঁচ বছরে ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘সে হিসাবে এই চার মাসে ৬ লাখ কর্মসংস্থান বাড়ার কথা। আদৌ কি ৬ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে সেই কর্মসংস্থানগুলো কোথায়?’
ঋণ করে ঘি খাওয়ার কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘সরকারি দলের কিছু সদস্য এটিকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। এটাকে উনারা এভাবে নিয়েছেন—ঋণ করো, ঋণখেলাপি হও, তা-ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো। কীভাবে ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়, তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এই বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে। ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে হবে।
এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হবে, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন হাসনাত। করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ব্যবসা করলে করপোরেট কর ২৭ শতাংশ। ডিভিডেন্ড কর ৪০ শতাংশ। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসবে না। আশা করা হয়েছিল এই বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হবে, করপোরেট কর সহনশীল মাত্রায় কমানো হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। কীভাবে মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনা হবে, বাজেটে সেটা স্পষ্ট নয়। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি একই সাথে বলছেন, মাছ মুচমুচে করে ভাজবেন। আবার একই সাথে বলছেন আপনি তেলটা কম দেবেন। এই যে স্ববিরোধী অবস্থান, এটা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে হবে।’
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে কর আরোপের কথা বলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দিন শেষে বিক্রেতা ক্রেতাদের কাছ থেকে এই কর নেবে। একদিকে বলা হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো হবে, আবার বলা হচ্ছে ট্যাক্স বাড়ানো হবে, এটি সাংঘর্ষিক।
একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন সম্পাদককে জেলে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরাও কথা বলতে ভয় পান। কারণ, তাঁরা সরকার বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে তাঁর এলাকার বাজেট যে বন্ধ করে দেওয়া হবে না তার নিশ্চয়তা নেই।
একটি শিল্পগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার অগ্রগতি জানতে চান এনসিপির এই নেতা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রকাশ করা শ্বেতপত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে দেখানো হয়েছে, ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা পাচার করেছে, তারা এখন সদর্পে দেশে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ঋণখেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, গুম-খুনের বৈধতা দানকারীদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে পদক্ষেপ দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, সে জন্য সাধুবাদ। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা উনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে শুনতে চাই, উনার দলের কাছ থেকে শুনতে চাই, গুম-খুন-হত্যার উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন। উনি আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। এত দিন ধরে যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন।’