হোম > জাতীয়

৬০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একগুচ্ছ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও তার অগ্রগতি তুলে ধরার সময় এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনার আলোকে ইতিমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। প্রশ্নটি ছিল, সরকার শপথ নেওয়ার পর এ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রাধিকার দিয়ে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পদক্ষেপগুলো কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কৃষক কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে গত ১৪ এপ্রিল “কৃষক কার্ড” বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রিপাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

জনগণকে আধুনিক চিকিৎসাসেবা দিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রথম ধাপে ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের পাঁচটি জেলা খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে।

পাশাপাশি দেশের জলাশয় সংস্কারের লক্ষ্যে গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির অধীনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৬৬৬টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫ দশমিক ০৪ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুর মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ করা হবে। ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন মাধ্যম পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ক্রীড়াবিদদের মূল্যায়নে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার বিপরীতে ইতিমধ্যে ৩০০ জনকে ভাতা এবং ৩২৫ জনকে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে গত ২ মে থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তরুণদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মঈন খান

নির্বাচনী দায়িত্বে নিহতদের ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে ইসি

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মাহবুব উল হানিফসহ ৪ জনের রায় যেকোনো দিন

চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

সাংবাদিকদের জন্য আপিল বিভাগের দ্বার খুলবে কবে

গম্ভীরাকে ইউনেসকোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নমিনেশনের পরিকল্পনা রয়েছে: সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিরোধী দলের এলাকায়ও সমান উন্নয়ন হবে, গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত: প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর-কলম্বোর মতো দক্ষভাবে পরিচালিত হবে: নৌমন্ত্রী

বাজেটে সুন্দরভাবে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান তৈরির সুবিধা রাখার চেষ্টা হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী