প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে ভারতীয় দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে রাজধানী নতুন দিল্লিতে পৌঁছাতে পারেন।
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে তিনি চলতি সপ্তাহের শুক্রবারই ভারতে যেতে পারেন। তবে পরবর্তীতে কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও দ্বিপক্ষীয় সমন্বয়ের সুবিধার্থে সেই সফর সূচিতে পরিবর্তন এনে আগামী সপ্তাহের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে এটিই হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া বা প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর ঘিরে দুটি দেশের কূটনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সরাসরি অডিও বার্তা দেওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ ও পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। কারণ বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক একজন ব্যক্তিকে নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করতে দিয়ে গর্হিত কাজ করেছে।
ভারত সরকার অবশ্য এই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকার পক্ষ থেকে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে ও দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন নিরসনে এই সফরকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত এই বৈঠকে শেখ হাসিনার আইনি প্রত্যর্পণ ইস্যুটি আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হলেও দুই পক্ষই সম্পর্কের গতি স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিতে পারে।
সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় মিডিয়া বলছে, বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সংঘাত ও বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ঢাকার পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বন্দর ব্যবহারের সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা তিস্তা নদীর পানি চুক্তি চুক্তি সম্পন্নকরণ এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
এ ছাড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বাভাবিক করা এবং দুই দেশের মধ্যকার বাস ও রেল যোগাযোগ পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা নিয়ে কথা হতে পারে বলেও জানাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে দিল্লির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারত তার পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাগম্যাটিক বা বাস্তবসম্মত পুনর্মূল্যায়নের পথে হেঁটেছে। একইভাবে, বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে টেকসই এবং পেশাদার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বারবার জোর দেওয়া হয়েছে।