বর্তমান সরকার দেশের ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই শিক্ষকেরা ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে ২০২২ সাল থেকে ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ২০২২ সাল থেকে এই তহবিল থেকে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দেখা যায় এই দুই ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।’
শিক্ষকদের ‘সমাজের আলোকবর্তিকা’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি লাঘবের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘যত দিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে আপনাদের আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা সইতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ প্রতি মাসে যে টাকা জমা দেন, সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি “অ্যামাউন্ট” জমা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো “অ্যামাউন্ট” হাতে পান।’
তারেক রহমান বলেন, ‘উদ্দেশ্য মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে মনে হয় ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল। আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরকালীন সুবিধার টাকা আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি কিন্তু অত সহজ ছিল না। কারণ, পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক বিমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত, উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংসের মাধ্যমে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে যে শিক্ষকগণ সারা জীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালি সময় পার করে দিয়েছেন, জীবনের এই প্রান্তে এসে তাদের চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট” এবং ২০০২ সালে “অবসর সুবিধা বোর্ড” প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এ তহবিলে সরকারি তহবিল থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে এ তহবিলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।