হোম > জাতীয়

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এনপিবি পিস্তল কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাগে পিস্তলের ম্যাগাজিন ধরা পড়ার পর উঠে এসেছে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য। তাঁর কাছে থাকা এনপিবি (নন-প্রোহিবিটেড বোর) পিস্তলটি সরকারের আইন অনুযায়ী বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া আবেদন অনুযায়ী গত বছরের ৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই পিস্তলের লাইসেন্সে অনাপত্তি দেওয়া হয়। জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখার উপসচিব ইসরাত জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অনাপত্তি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘আবেদনকারীর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগের অনাপত্তি নির্দেশক্রমে জ্ঞাপন করা হলো।’ এতে আবেদনকারীর বাবা-মায়ের নাম ও গ্রামের ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়।

এনপিবি পিস্তল কী?

এনপিবি বা নন-প্রোহিবিটেড বোর পিস্তল হলো এমন এক ধরনের স্বল্পশক্তিসম্পন্ন আগ্নেয়াস্ত্র, যা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে বেসামরিক নাগরিকরাও ধারণ করতে পারেন। এটি মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি, জেলা প্রশাসনের সুপারিশ এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধভাবে লাইসেন্সযোগ্য।

এনপিবি আগ্নেয়াস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত পিস্তল, রিভলভার, রাইফেল বা শটগান সাধারণত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শিকার বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করা যায়। তবে এসব অস্ত্রের ব্যবহারে রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত নবায়নের বাধ্যবাধকতা।

কে পেতে পারেন এই লাইসেন্স?

২০১৬ সালে প্রণীত ‘অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা’-এর ৩২-বিধি অনুযায়ী কিছু শ্রেণির ব্যক্তি অস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণে আয়কর সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পান। এদের মধ্যে রয়েছেন—

* জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

* মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী

* সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি (যেমন: মন্ত্রণালয় বা সরকারের উপদেষ্টা যাঁরা মন্ত্রিপর্যায়ের মর্যাদা ভোগ করেন)

এই বিধিমালার আওতায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আইনত অস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণের যোগ্য হন। জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত অনাপত্তি চিঠির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে লাইসেন্স মঞ্জুর করে।

বিমানবন্দরে সেদিন কী ঘটেছিল?

গত রোববার (২৩ জুন) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত স্ক্যানিংয়ের সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার ব্যাগে একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ঘটনাটিকে ‘ভুলবশত’ বলে ব্যাখ্যা দেন আসিফ মাহমুদ। দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, অসাবধানতাবশত ম্যাগাজিনটি ব্যাগে থেকে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে মরক্কোর উদ্দেশে যাত্রা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরদিন সোমবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ভুলবশত হয়েছে। ম্যাগাজিনটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যাগে ছিল। তবে এ নিয়ে তদন্ত চলছে।’

বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র বা এর যেকোনো অংশ বহন আইনত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও লাইসেন্সধারী ব্যক্তি অস্ত্র বহনের অনুমতি পান, তবু বিমানভ্রমণের ক্ষেত্রে আগেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা ও আলাদা প্রক্রিয়ায় অস্ত্র বহন করতে হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

আরও খবর পড়ুন:

‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’—কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব শুরু

খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল-ফাতেমাসহ আরও যাঁরা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক

সরকার পুলিশের প্রতি খুবই আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল: আইজিপি

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে মাদক পাচার রোধে সমঝোতা স্মারক সই

নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রচর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যাচ্ছেন শনিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে দেশের পথে বৃষ্টির মরদেহ, পৌঁছাবে কাল

বৈধ প্রক্রিয়ায় হজের অনুমতিপত্র গ্রহণের পরামর্শ

পৌরসভা হলো পেকুয়া, সীমানা বাড়ল শিবগঞ্জ পৌরসভার