পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের আক্রমণ করাকে উদ্বেগজনক ও অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া মুক্ত গণমাধ্যম, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং এতে জনগণের তথ্য জানার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, তথ্য জানার অধিকার আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের শীর্ষপর্যায়সহ বিভিন্ন অবস্থান থেকেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বারবার ব্যক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্যভিত্তিক ও সরাসরি জবাব প্রত্যাশিত।
টিআইবির ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রকাশের মাধ্যমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিবেদনকারী গণমাধ্যম ও প্রশ্ন উত্থাপনকারী সংবাদকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক পাল্টা প্রশ্ন একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য শোভনীয় নয়; বরং তা অনৈতিক ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি সরকারের জন্যও বিব্রতকর।
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এ ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের ওপর অযৌক্তিক ও অযাচিত চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এতে ক্ষমতাসীন বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অস্বস্তিকর বিষয়ে প্রশ্ন করাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘চিলিং ইফেক্ট’ সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ে বলেও মনে করে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এর ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণের তথ্য জানার অধিকার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় পদকে কেন্দ্র করে। তাই এর আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বিতর্কের ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ এবং তাঁর নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রশ্নকারী সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা মুক্ত গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার খর্ব করার শামিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমমর্যাদার দায়িত্বশীল ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন থাকলে স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক জবাবদিহির স্বার্থে তাঁদের ক্ষেত্রেও একইভাবে অবস্থান ও প্রামাণ্য তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।