সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে ২৬৫ জন আইনজীবীকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটার অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই সঙ্গে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আগের সব নিয়োগ বাতিল করা হয়।
এই নিয়োগের আগ পর্যন্ত ৯৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ২১৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে। যাদের সবার নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হলো।
তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশির ভাগই আগে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অ্যাটর্নি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা একে একে সবাই পদত্যাগ করে চলে যান। ওই বছরের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
সেই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপি সমর্থক কিছু আইনজীবীও আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে মো. আসাদুজ্জামান আইনমন্ত্রী হন। এরপর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় গত ২৩ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জামায়াতপন্থী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ১৮ জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন—সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।
এ দিকে নতুন করে ২৬৫ জন নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তার মধ্যে জামায়াত সমর্থিত কেউ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।