দেশের ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মানোন্নয়নে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে সরকার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুদান পাওয়ার জন্য বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরে ছয়টি নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ৭০ নম্বর বা তার বেশি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে ৭৩টি কেন্দ্রকে অনুদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে নিবন্ধিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৮৭টি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮৩ লাখ। এদের অধিকাংশই পুরুষ হলেও নারী ও শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তির প্রবণতা রয়েছে। দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা নিয়ে এটিই ডিএনসির প্রথম সমীক্ষা। এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মাদক নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি মোকাবিলায় বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি। বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রসহ চারটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে একসঙ্গে মাত্র ১৯৯ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ৫০টি এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৩০টি শয্যা মাদকাসক্তিজনিত মানসিক রোগীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি পর্যায়ে একসঙ্গে মাত্র ২৭৯ জন রোগীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া যায়।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে ৩৮৭টি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি সরকার ঢাকায় ২৫০ শয্যার একটি এবং দেশের বাকি সাত বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আরও সাতটি পূর্ণাঙ্গ মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়ন ও কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকার প্রতি বছর আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৭৩টি কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুযোগ থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানো যেতে পারে। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুদান পায়, তাদের বেশির ভাগই তুলনামূলক ভালো মানের প্রতিষ্ঠান। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল কেন্দ্রগুলোকে অনুদানের আওতায় আনা গেলে তারাও সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুদানের পরিবর্তে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। এতে অনুদান ও পুরস্কার—দুই ধরনের উৎসাহই দেওয়া সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বলেন, ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।