জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন,‘বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি এবং কৃষিবান্ধব। বিএনপি যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। এরই মধ্যে সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেট সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সেচ সুবিধা প্রসারে সরকারের সাম্প্রতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত তিন মাসেই দেশে ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ বছরে সারা দেশে আরও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নানামুখী সংকটকে আমরা অস্বীকারও করতে চাই না, আবার সংকটের অজুহাতও বানাতে চাই না। বরং সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করতেই আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, এবারের বাজেটে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করার ফলে বাজারে পণ্যের দাম বর্তমানে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের চাকাকে সচল ও বেগবান করাই এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য। আমরা একটি বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি গড়ার কাজ হাতে নিয়েছি।’
তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরির আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে যেখানে যুবসমাজকে একটি চাকরির জন্য বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াতে হবে না। দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।