হোম > জাতীয়

কৃষক কার্ড: প্রণোদনার অর্থে শুধু সার, বীজ কৃষি উপকরণই কেনা যাবে

সাইফুল মাসুম, ঢাকা

প্রতীকী ছবি।

কৃষক কার্ডধারীদের প্রণোদনার অর্থ দিয়ে ডিলার পয়েন্ট থেকে শুধু সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ কিনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ১ অক্টোবর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী দিনে সারা দেশের এক লাখ কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনার অর্থ পাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফুলগাজী উপজেলার পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই ধাপে প্রায় ২১ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়।

সারা দেশে কৃষক কার্ডের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) পার্টনার প্রকল্পের আওতায়। জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ফেনীর ফুলগাজীর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মূল অনুষ্ঠান হলেও ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হবে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায়।

পার্টনার প্রকল্প সূত্র জানায়, উদ্বোধনের প্রস্তুতি হিসেবে প্ল্যাকার্ডসহ কিছু সরঞ্জাম ফুলগাজীতে পাঠানো হয়েছে। পার্টনার প্রকল্পের অংশ টারাপস থেকে কৃষক কার্ডে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হচ্ছে রাজস্ব খাত থেকে। কৃষক কার্ড সরবরাহ নির্দিষ্ট তিনটি ব্যাংক থেকে করা হলেও এ খরচ পরে প্রকল্প থেকে বহন করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, কৃষক কার্ডের আওতায় এরই মধ্যে ১৮ লাখ ৩ হাজার কৃষক নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে উদ্বোধনী দিনে প্রণোদনার অর্থ পাবেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। তাঁদের মধ্যে কৃষক কার্ডের হার্ড কপি হাতে পাবেন ফেনীর ছয় উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক। বাকি জেলাগুলোর ৭১ উপজেলার প্রায় ৯২ হাজার কৃষক উদ্বোধনী দিনে প্রণোদনা পেলেও কৃষক কার্ডের হার্ড কপি পাবেন না। পরে সোনালী, কৃষি ও জনতা ব্যাংকের সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

ওই ৯২ হাজার কৃষক প্রণোদনার অর্থ কীভাবে উত্তোলন করবেন, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেল সূত্র জানায়, ফেনীর উপজেলাগুলো ছাড়া দেশের অন্য উপজেলাগুলোতে পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন পাঠানো হয়নি। ফলে প্রণোদনা পাওয়া ওই কৃষকদের বিকল্প পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলনের কথা বলা হলেও, সেই বিকল্প পদ্ধতি কী, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া কৃষক কার্ডের বিপরীতে জমা হওয়া অর্থ দিয়ে শুধু কৃষি উপকরণ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রণোদনার অর্থ কৃষকেরা কী পদ্ধতিতে ব্যবহার করবেন, তা নির্ধারণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মজিদ প্রামাণিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষকদের কিউআর কোড সরবরাহ করা হবে। কার্ড না থাকলেও কৃষকেরা কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।