জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে ৩৬ শতাংশ মূল্যছাড় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা জাতীয় ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাঁদের আত্মত্যাগ শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না, তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ৩৬ জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান ও আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে বিনা মূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থায় জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ মানুষের মর্যাদা, অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশের প্রকৃত অগ্রগতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় বৈষম্যহীন সুযোগ ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা ও জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ যোদ্ধার পরিবারের সদস্য ও পাঁচজন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।