রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমার প্রস্তাব হলো, মাননীয় স্পিকার, আমাদের বাংলাদেশে হানাফি আলেম আছেন, আহলে হাদিস আলেম আছেন, আলেমদের একটা কমিটি করেন। এই জাকাত দিয়ে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি বাংলাদেশে চালু করতে হবে। সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।’
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুর রহমান এ কথা বলেন। বক্তব্যে আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি ও জাকাত মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তিনি।
ঋণ ও সুদের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ঋণের ব্যাপারে খুবই সাবধান হওয়া উচিত। যারা ঋণ করে, তারা স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। সুদের ফল দুনিয়ায় ধ্বংস হয়ে যাবে। কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে—আল্লাহ তাআলা সুদকে ধ্বংস করেন এবং জাকাত-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।’
মুজিবুর রহমান বলেন, যদি সুদ চালু থাকে, জাতির ওপরে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যাবে। যেকোনো সময় আল্লাহ তাআলা মহামারির দুর্যোগ সেখানে নাজিল করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, সুদকে বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি সেখানে চালু করার সুন্দর একটা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি করার ও সুদকে বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ হলো ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও পাকিস্তান। আমি বাংলাদেশকেও মনে করি একটা ওই ধরনের দেশ, যেখানে সুদকে বন্ধ করে ইসলামি অর্থনীতি চালু করার একটা চেষ্টা ইসলামী ব্যাংক করেছিল। কিন্তু শকুনের দৃষ্টি ইসলামী ব্যাংকের ওপর পড়ার কারণে আজকে এই ব্যাংক বিধ্বস্ত হতে চলেছে।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক যখন ঠিকমতো চলছিল, বড় বড় সুদি ব্যাংক বাংলাদেশে ছিল। তারা যখন দেখল, এই সুদির কারবার চলছে না, তখন প্রতিটা ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল। এটা প্রমাণ করে, বাংলাদেশে সুদ ছাড়াই অর্থনীতি চলতে পারে।
ঠিকমতো জাকাত আদায় করা গেলে দুই লাখ কোটি টাকা আসতে পারে—মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য দেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের হাতে কাজ দিন। জনগণ কার্ড চায় না, কাজ চায়। এই জাতিকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে চায়।