হোম > জাতীয়

৬৪৬৫ অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: জাতীয় সংসদ

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।

জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে আরও জানানো হয়, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তিও অপেক্ষমাণ। এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জামুকা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি গাজী নজরুল ইসলাম

এদিকে জামায়াতের অনুরোধে কমিটির সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠক

এদিকে মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয় এবং সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, আগের সরকারের সময়ে টিসিবির ডিলার নিয়োগে কোনো নীতিমালা ছিল না। বর্তমানে ডিলার নিয়োগের নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের আর নতুন করে ডিলারশিপ না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া টিসিবিতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমানো এবং বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে আরও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের গত ১০ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, আদায় করা জরিমানা এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।