র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাইকারীরা ঝুঁকিতে থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক।
নির্বাচনে ঝুঁকির বিষয়ে এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘ঝুঁকি অবশ্যই আছে— তবে সেই ঝুঁকি তাদের জন্য যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে যাবে, জাল ভোট দিতে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা সহিংসতা সৃষ্টি করবে। ভোটের ফলাফল না মেনে নিয়ে যদি বিশৃঙ্খলা, নাশকতার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং এখানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।’
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই র্যাব কাজ করছে। দেশের ৬৪ জেলা ও ৮ মেট্রোপলিটনে র্যাবের টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো বহিরাগত ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। যদি কোনো সন্দেহজনক উপস্থিতি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নজরে আসে, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়ে র্যাবপ্রধান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ উভয় ধরনের ভোটকেন্দ্রে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ সবাই সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুতরাং, আমরা কোনো বড় আশঙ্কা করছি না। এবার সর্বাধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।’
নির্বাচনে জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য নেই জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক শহিদুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গি হামলার শঙ্কা না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচনটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।’