আগামী ফিফা বিশ্বকাপে বিনামূল্যে খেলা সম্প্রচারের পাশাপাশি সরকার বড় মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আগামী বিশ্বকাপে শুধু বিনামূল্যে খেলা সম্প্রচারই নয়; বরং বিজ্ঞাপনের বিশাল বাজার কাজে লাগিয়ে সরকারের জন্য বড় মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারি রাজস্বের এক টাকাও খরচ হয়নি বলেও জানান তিনি।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদপত্র তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ সময় আরও ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিকনির্দেশনা, সততা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তার কারণেই দেশের বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী মানুষকে বঞ্চিত না করে এবং রাজস্বের টাকা খরচ না করেই এ বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের কৃচ্ছ্রতাসাধন নীতির মধ্যে থেকেও যাতে ফুটবলপ্রেমী মানুষ খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিকল্প কাঠামো তৈরি করেই এই বিশাল সাফল্য এসেছে।
সফলভাবে এই সম্প্রচার কার্যক্রম শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তথ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা, বিটিভির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ভবিষ্যৎ সম্প্রচার পরিকল্পনা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবার আমরা শূন্য ব্যয়ে খেলা সম্প্রচার করার চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছি। আগামী বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘বিনা খরচে খেলা দেখানো’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিজ্ঞাপনের বিশাল বাজার থেকে বড় ধরনের অর্থ উপার্জন করে একে একটি লাভজনক ইভেন্টে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গত কয়েক মাসে সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্রীড়াঙ্গনে অভূতপূর্ব এক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে একদিকে যেমন মাদকমুক্ত সমাজ ও সুস্থ মনোজগৎ গঠন সম্ভব হবে, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ জনবলও তৈরি হবে। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করছে।