ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৪টি আসনে ৮৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো নেতারাও রয়েছেন।
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাইয়ের সময় মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় প্রথমে স্থগিত রাখা হলেও পরে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। গোলাম মাওলা নামের আরও একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামার তথ্যে গরমিল থাকায় মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়ন বাতিল হয়। গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার এবং স্বতন্ত্র রেজাউল করিম কালুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
যশোরে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৪ আসনে বিএনপির টি এস আইয়ূব, বিএনপির বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বরিশাল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম এবং এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন), খুলনা-৬ আসনের জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং স্বতন্ত্র মো. আছাদুল বিশ্বাস। বগুড়া-১ আসনে সমর্থক ভোটারদের তথ্যে গরমিল পাওয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী শাহাজাদী আলম লিপির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
গাইবান্ধায় আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে পাঁচজন এবং গাইবান্ধা-২ আসনে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের মাজেদুর রহমান মাজেদ, ইসলামী আন্দোলনের রমজান আলী, জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরদার, স্বতন্ত্র ছালমা আকতার ও মো. মোস্তফা মহসীন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ কে এম গোলাম আযম।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী নেতা আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রংপুর-৩ ও ৪ আসনে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র রিটা রহমান, বাসদ (মার্ক্সবাদী) আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রংপুর-৪ আসনে বাতিলের তালিকায় রয়েছেন স্বতন্ত্র শাহ্ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুস ছালাম।
চট্টগ্রামে চারটি আসনে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি ও মোহা. এরশাদ উল্ল্যা, স্বতন্ত্র জিন্নাত আক্তার, স্বতন্ত্র আহমদ কবির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, জাতীয় পার্টির এম এ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।
নীলফামারীর চারটি আসনে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁরা হলেন স্বতন্ত্র মো. রফিকুল ইসলাম, আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লাহ, মিনহাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. রোহান চৌধুরী এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. আমজাদ হোসেন; স্বতন্ত্র মো. জোবায়দুর রহমান, রিয়াদ আরাফাত সরকার, মো. মামুনুর রশিদ ও মো. শাহরিয়ার ফেরদৌস।
পাবনা-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁরা হলেন—খায়রুন নাহার খানম ও ইউনুস আলী। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র মো. মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নূর হোসাইন নূরানী। টাঙ্গাইলের চার আসনে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁরা হলেন—টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র মোন্তাজ আলী, ইসলামী আন্দোলনের মো. হারুন অর রশীদ ও বিএনপির বিদ্রোহী মোহাম্মদ আলী; টাঙ্গাইল-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন সাগর; টাঙ্গাইল-৩ আসনে স্বতন্ত্র আইনিন নাহার ও মো. শাহজাহান মিয়া; টাঙ্গাইল-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র মো. আব্দুল হালিম মিয়া ও মো. শাহ আলম তালুকদার।