হোম > জাতীয়

দেড় বছর পর ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত রেল বৈঠক আগামীকাল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময়ের অনিশ্চয়তার পর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ৩৮তম ইন্টার গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) বা আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠক শুরু হচ্ছে আগামীকাল। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠক চলবে আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বৈঠকে দুই দেশের আন্তদেশীয় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা, সীমান্তবর্তী রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, চলমান রেল প্রকল্প, আর্থিক পাওনা-দেনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি এবং ভারতের পক্ষে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে এই বৈঠকে।

বৈঠকের প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমাদের প্রত্যাশা, দুই দেশের রেলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর প্রস্তাব। এ ছাড়া বন্ধন এক্সপ্রেসে প্রান্ত-থেকে-প্রান্ত (এন্ড-টু-এন্ড) ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু এবং পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হবে।

আন্তদেশীয় যাত্রীসেবা বাড়াতে রাতের বেলায় ট্রেন পরিচালনা, যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল বুকিং সুবিধা চালু এবং রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেনের আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। যাত্রীসেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা ও গতি বাড়তে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের মধ্যে প্রতিবছর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ৩৭তম আইজিআরএম ভারতের নয়াদিল্লিতে ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অন্যান্য কারণে তা কয়েক দফা পিছিয়ে যায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি পথে মিতালী এক্সপ্রেস, ঢাকা-কলকাতা পথে মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং খুলনা-কলকাতা পথে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে এসব ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।