বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবেদন জানান। অপর দিকে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জাকির হোসাইন।
পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন ও অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এস এম শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদৎ আলী।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইমাম হাসান তাইম। পরের বছরের ২৪ ডিসেম্বর এই হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওই ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
পরে তা আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর আগে গত সোমবার আন্দোলনের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।