বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য গড়ে তোলা হবে কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), যাতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় নিয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু, শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং চিনিকলের ডিস্টিলারি থেকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির সুযোগ নিয়ে ডিসিরা প্রস্তাব ও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকেরা নিজ নিজ জেলার শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত। তাই রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে সেগুলো চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যে। গত পাঁচ দশকে সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো পুরো সাপ্লাই চেইনকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আওতায় আনতে চায়।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি এআই জেনারেটেড মডেল তৈরি করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি স্টোরেজ সুবিধা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভর পণ্যের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এক বা দুই মাসের ভোজ্যতেলের সমপরিমাণ মজুত রাখা গেলে কেউ সহজে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারবে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংকট বা সরবরাহ বিঘ্ন হলেও দেশের মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে বঞ্চিত হবে না।
টিসিবির কার্যক্রমও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিসিবির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে একটি কার্যকর উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যাতে নীতিগত সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা যায়।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পর যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয় সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিসিকের মাধ্যমে সারা দেশে লবণ সরবরাহ করা হবে এবং চামড়ায় লবণ প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, কোরবানির পর সাত দিন কোনো ট্রাকে চামড়া ঢাকায় আনা যাবে না। এতে বিদ্যমান ট্যানারি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। স্থানীয়ভাবে চামড়া সংরক্ষণ করে পরে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
পাট ও বস্ত্র খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ৫০টি মিলের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক মিল ইতিমধ্যে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এ বছরের মধ্যেই আরও কয়েকটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবে।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মিল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই আরও কয়েকটি মিল হস্তান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।