স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
আজ রোববার (২ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ যেন সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার তাঁদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ ছয় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন।
এ ছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জি এম আজিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।