দেশের আকাশপথে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (এটিসি) তৈরির লক্ষ্যে সিভিল অ্যাভিয়েশন একাডেমিতে এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬ শুরু হয়েছে। ২৭ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।
আজ রোববার সকাল ১০টায় সিভিল অ্যাভিয়েশন একাডেমিতে কোর্সের উদ্বোধন করেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম।
তিনি বলেন, বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল একটি কার্যক্রম। প্রতিদিন আকাশপথে অসংখ্য উড়োজাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, উড্ডয়ন ও অবতরণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং আকাশপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, দেশের বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের পেশাগত দক্ষতা এবং দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশিক্ষণার্থী ও অতিথিদের স্বাগত জানান সিভিল অ্যাভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের পরিচালক (এটিএম) মো. সামছুল হকও বক্তব্য দেন। এ সময় সিভিল অ্যাভিয়েশন একাডেমি ও বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬-এ মোট ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। এঁদের মধ্যে বিমানবাহিনীর ৮জন এবং বেবিচকের ৬জন রয়েছেন। আগামী ২৭ সপ্তাহ তাঁরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেবেন।
বেবিচক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিমান চলাচলের পরিধি ও উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অ্যাভিয়েশন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।