মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের করা আপিল শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই ওই আপিল করেন আবুল কালাম। সেই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজাও স্থগিতও চাওয়া হয়।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আপিলকারী পক্ষ কপি দেয়নি। সে কারণে মুলতবি চেয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে আওয়ামী লীগের সময় ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারের সময় তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তিনটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড, এবং চারটিতে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর প্রমাণের অভাবে একটি অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেয়।
২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশে ফেরেন তিনি। পরে গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। চলতি বছরের ২১ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আত্মসমর্পণ করলে মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তিনি যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন বলে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।