অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতেই সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তাঁকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসা সুবিধা ও সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
বিএমইউর দাবি, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের বাজেট সভায় মূল এজেন্ডার বাইরে ইমেরিটাস অধ্যাপক অধ্যাদেশ সংশোধন করে আজীবন নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সভায় সংশোধিত বিধানের আওতায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস ও স্টাফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য, এ পর্যন্ত তিনি এ খাতে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন এবং মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশসহ অধ্যাদেশে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে আর্থিক সুবিধার বিষয়ে অর্থ কমিটির সুপারিশ নেওয়ারও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এসব কারণে নিয়োগটি প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করে। তাই গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএমইউ আরও জানিয়েছে, বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধার করা আইনি বাধ্যবাধকতা। সে অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য, কাউকে হয়রানি নয়, বরং আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।