বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির (শয়ন) ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী, জামাল উদ্দীন ও তানভীর হাসান সৈকত ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশকে হামলা চালানোর জন্য উসকানি দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যসহ বেশ কিছু লোক। শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে বক্তব্য দেন, তখন কিছু শিক্ষকও এ বক্তব্য ‘ক্যারি আউট’ করে তাঁদের অধীনস্থদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। সেই সঙ্গে পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ আসামি হাজির আছেন। অন্য ৩০ আসামি পলাতক। তাঁদের আত্মসমর্পণ করার জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরও তাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৩০ আসামি পলাতক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। পরে রাশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সময় নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। গত বছরের ৩০ এপ্রিল ওই অভিযোগ দিয়েছিলেন তিনি।
রাশেদ খান আরও জানান, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ১ জুলাই তাঁকে হাত-চোখ বেঁধে ও মুখে গামছা দিয়ে বেঁধে প্রায় ৩০ মিনিট সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মধ্যে নির্যাতন করা হয়।
ইশতিয়াক আহমেদকে গত বছরের এপ্রিলে রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।