একযোগে আট আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন
আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে নির্ধারিত আরও সাতটি আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামি মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে ইসলামি শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
সেনাপ্রধান বলেন, আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।
সেনাপ্রধান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামি নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।
প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি মাধ্যম বিভাগ ক্যামব্রিজ কারিকুলাম অনুসরণ করে পরিচালিত হবে জানান তিনি।
সেনা প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী সারা দেশে প্রায় ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। নতুন এই প্রতিষ্ঠানগুলো সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করবে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুল-কলেজগুলোর সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।