দেশে অবস্থিত কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্ক্রিপ্টেড ই-মেইলের মাধ্যমে এসব হুমকি দেওয়া হয়। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে আজকের পত্রিকা।
সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার আমাদের সঙ্গে দূতাবাসের কথা হয়েছে। একাধিক দূতাবাসের ই-মেইলে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তদন্ত চলছে। তা ছাড়া এসব ই-মেইল স্ক্যাম মনে হচ্ছে।’
তবে কিসের হুমকি দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কিছু জানাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই ধরনের ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বারিধারায় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। তাঁরা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কোনো গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দূতাবাস এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ই-মেইলে হুমকির বিষয়ে কোনো দূতাবাস থেকে আমাদের কাছে জিডি করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় তাঁরা জিডি করেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা জিডি হয়নি।’
এদিকে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে একসময় বাংলাদেশে আলোচিত ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কার্যক্রমও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নব্য জেএমবির একটি চক্রের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন তথ্য পেয়েছে।
১২ আগস্ট সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তিনতলা একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় সিটিটিসি। সেখান থেকে একটি সন্দেহজনক প্রেশার কুকার বা ‘কেটলি বোমা’, বিপুল গানপাউডারসহ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদিদোকানের সামনে ফেলে যাওয়া একটি ভ্রমণ ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
২৪ জুলাই ঢাকার মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়।
গত জানুয়ারিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসা ও শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ঘটনাটি তদন্ত করছে।
সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি।’