দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে অপরাধের সংখ্যা বেশি না বাড়লেও অপরাধের ধরন ও নিষ্ঠুরতায় এসেছে উদ্বেগজনক পরিবর্তন। গত জুলাই মাসের তুলনায় নারী ও শিশু হত্যা, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণ ও হত্যা অনেকাংশে বেড়েছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) আগস্ট মনিটরিং প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।
আজ সোমবার সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাইয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩০৬টি, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭টিতে। অর্থাৎ, বৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও প্রাণঘাতী যৌন সহিংসতা বেশি উদ্বেগের। জুলাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল সাতটি, আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ১২টি—বৃদ্ধি ৭২ শতাংশ। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও তিন থেকে বেড়ে পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে।
আগস্টের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির জায়গা হত্যাকাণ্ড। এক মাসে নারী ও শিশু হত্যার ৯১টি ঘটনা ঘটেছে, যা জুলাইয়ের ৫২টির তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ২৮ থেকে বেড়ে ৩৯টিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যৌন হয়রানির ঘটনা ২২টিতে অপরিবর্তিত থাকলেও শারীরিক নির্যাতন কিছুটা কমেছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও একটি ভয়াবহ দিক বেআইনি সালিস। আগস্টে এমন চারটি ঘটনা সামনে এসেছে। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া, শিশুকে যৌন হয়রানির ঘটনায় বেত্রাঘাত ও জরিমানা কিংবা শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে। এ ধরনের সালিস শুধু বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে না, অপরাধীকেও পরোক্ষভাবে নিরাপত্তা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তার জুলাইয়ের ৯৩ থেকে আগস্টে বেড়ে হয়েছে ২১৩ জন, অর্থাৎ, ১২৯ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে। এমনকি এর প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে।
এমএসএফের পর্যবেক্ষণ বলছে, মানবাধিকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু অপরাধের সংখ্যা গোনা যথেষ্ট নয়। কোন অপরাধ বাড়ছে, কতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে ও অপরাধের পর বিচার কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটি এখন মূল প্রশ্ন।