দেশের বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত স্ক্যানার ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সভায় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমান চলাচলে নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। সামনে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট অনুষ্ঠিত হবে। তাই সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে আইকাওর মানদণ্ড পূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে ভিআইপি, সিআইপিসহ সবার জন্য একই নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা-হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যবিনিময় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার, আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বাড়ানো ও দেশের সব বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), পুলিশ, আনসার, এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুপারিশ করা হয়। যাত্রীসেবা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।